1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. Jalalhossen555@gmail.com : Jalal Hossen : Jalal Hossen
  3. khorshed.eco@gmail.com : Khorshed Alom : Khorshed Alom
  4. hossaintnt@live.com : Shah Sumon : Shah Sumon
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ 
বঙ্গবন্ধু ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সংবেদনশীল মানুষ: ড. কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু ছিলেন দর্শন অনুরাগী মানুষ : ড. কলিমউল্লাহ জেবিএল বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুমিল্লা কমিটির শেখ রাসেল দিবস উদযাপন জনতা ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুমিল্লা কমিটি এসপিও ও পিও কে ফুলেল শুভেচ্ছা চান্দিনায় স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: এম.পি প্রাণ গোপাল দত্ত বঙ্গবন্ধু আজীবন মানবতার জয়গান গেয়েছেন: ড. কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু ন্যায্যতায় বিশ্বাসী ছিলেন : ড. কলিমউল্লাহ চান্দিনার কামারখোলা কমিউনিটি লাইব্রেরি পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ চান্দিনা কামারখোলার সুজাত আলী মাষ্টারের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী বঙ্গবন্ধু তাঁর লক্ষ্যে বরাবর অবিচল ছিলেন: ড. কলিমউল্লাহ

বাল্য বিবাহ আইনত অপরাধ

মো: লিয়াকত চৌধুরী
  • আপডেট সময়: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৬৪ বার পড়া হয়েছে 
প্রতিকি ছবি
প্রতিকি ছবি
আমরা মানুষ সামাজিক জীব। আমাদের সমাজে একটি প্রথা আছে তাহল বিবাহ প্রথা। বিবাহ প্রথা হলে এর কিছু বিধিবিধান করা আছে। যার মধ্যে বাল্যবিবাহ আইনত অপরাধ। বিবাহ একমাত্র বৈধ মাধ্যম নারী ও পুরুষের সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য। কিন্তু  তা যদি বাল্যবিবাহ হয় তাহলে তা হবে অপরাধ  এবং আইনত দণ্ডনীয় ।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ধারা ২( ৪) অনুযায়ী, যে বিয়ের পক্ষ দ্বয়ের মধ্যে কোন এক পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক বা উভয় পক্ষই অপ্রাপ্তবয়স্ক সে বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ধারা ২ (১) এ  বর্ণিত বিধান অনুযায়ী  অপ্রাপ্তবয়স্ক বলতে তাদের বুঝাবে যারা, ২১ বছর বয়স পূর্ণ করে নাই এমন পুরুষ ও ১৮ বছর পূর্ণ করে নাই এমন নারী ।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৭ ও ৮ ধারায় বাল্যবিবাহের শাস্তির বিধান করা হয়েছে, ৮ ধারা এর বিধান অনুযায়ী,  যদি কোন পিতা-মাতা বা কোন অভিভাবক কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যাক্তির বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করে বা করতে অনুমতি দেয় বা নির্দেশ প্রদান করে হোক তা আইনগতভাবে অথবা আইন বহির্ভূতভাবে বা তাদের স্বীয় অবহেলার কারণে যদি কোন বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয় তাহলে তিনি ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজর টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন, আর অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
 কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষ অন্য কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন তাহলে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ধারা ৭ এর উপধারা ১ অনুযায়ী অপরাধ করেছেন বলে বিবেচিত হবে এবং শাস্তি স্বরুপ অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন ৷ কিন্তু  যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকেও বিয়ে করেন তাহলেও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ধারা ৭ এর উপধারা ২ এর বিধান অনুযায়ী সে অপরাধ করেছেন মর্মে শাস্তি স্বরুপ অনধিক এক মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।  তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আপনার বিচার এবং শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শিশু আইন ২০১৩ এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে । অপরদিকে যদি কোন বিবাহ নিবন্ধক বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করে তাহলে তিনিও অপরাধীর আওতায় পরবে এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ১১ ধারার বিধান অনুযায়ী ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং তার লাইসেন্স বা নিয়োগ বাতিল হবে।
যদি কোন বিবাহকে বাল্যবিবাহ হিসবে বিবেচনা করা হয় তাহলে অবশ্যই পক্ষ দ্বয়ের মধ্যে নারী ও পুরুষের বয়স প্রমাণের প্রয়োজন রাখে আর তা প্রমানের জন্য আপনাকে জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট, প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট অথবা পাসপোর্ট আইনগত দলিল হিসাবে পেশ করতে হবে।।
বাল্যবিবাহে বাধা প্রদানের ক্ষেত্রে,  আদালত নিজ উদ্যোগে বা কোন ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে যদি এমন তথ্যে নিশ্চিত হন যে, বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তাহলে আদালত উক্ত বাল্যবিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে শাস্তি প্রাপ্ত হবে। আবার, আদালত উপযুক্ত মনে করলে,  বাল্যবিবাহের উদ্যোগের সাথে জড়িত বিবাহ হয়নি এমন অভিযুক্ত যেকোন ব্যক্তিকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ভবিষ্যতে কোন বাল্যবিবাহের উদ্যোগের সাথে জড়িত হবে না এবং বাল্যবিবাহে বাধা প্রদান করবেন মর্মে মুচলেকা বা বণ্ড গ্রহণের মাধ্যমে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবেন ।।
বাল্যবিবাহের অপরাধ হলো আমলযোগ্য ও জামিন যোগ্য অপরাধ তবে আপোষের বিধান নেই, এবং উক্ত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ২ বছরের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। বাল্যবিবাহের বিচার ফৌজদারি কার্যবিধির বাইশতম অধ্যায় অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। বাল্যবিবাহ যদিও আইনত অপরাধ তবুও বিবাহ একটি পবিত্র বন্ধন তাই বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ১৯ ধারায় একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে, তা হলো : বিশেষ প্রেক্ষাপটে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশ ও অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে  বিবাহ সম্পাদিত হলে তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না।
বর্তমানে দেশে পূর্বের তুলনায়  বাল্যবিবাহের হার কিছটা কমেছে কিন্তু পুরোপুরি না। বাল্যবিবাহে বন্ধ করার অন্যতম কারণ অপ্রাপ্ত বয়স। সুতরাং  অভিভাবকদের উচিত প্রাপ্ত না পর্যন্ত সন্তানকে যত্নে রাখা এবং শিক্ষিত করে দেশের জন্য উপযুক্ত করা।

লেখক
মো: লিয়াকত চৌধুরী
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখাটি শেয়ার করুন 

আপনার মতামত লেখুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো খবর 
© All rights reserved © 2020 ChandinaOnlineExplorer.com
Theme Customized BY LatestNews