1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. Jalalhossen555@gmail.com : Jalal Hossen : Jalal Hossen
  3. khorshed.eco@gmail.com : Khorshed Alom : Khorshed Alom
  4. hossaintnt@live.com : Shah Sumon : Shah Sumon
মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ 
কামারখোলায় নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক যুবসমাজের উদ্যোগে গরিবের মাঝে ৩০টি ব্রয়েলার মুরগী ইদ উপহার বিতরণ চাঁদপুরে রামমোহন তমিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ০৬ ব্যাচের নৌকা ও আনন্দ ভ্রমন উইঘুর শিবিরগুলোতে যা হচ্ছ রামমোহন তমিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ০৬ ব্যাচের এ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর আত্ম-প্রকাশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একশত তম ওয়ানডে জিতেছেন সাকিব আল হাসান কাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব | শায়খ গোলাম কিবরিয়া আযহারী কামারখোলা গ্রাম পরিদর্শনে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুন নাহার! চান্দিনার করতলা টু রামমোহন বাজার রাস্তায় সুড়ঙ্গ বেহাল অবস্থা দেখার কেউ নেই রাস্তা নয় এ যেন মরণ ফাঁদ! চান্দিনার কামারখোলা যুব সমাজের উদ্যোগে ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

কিশোর অপরাধ – জীবনের শুরুতেই কলঙ্ক।

জিসান তাসফিক
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে 
” শিশু – কিশোর বয়স পেড়িয়ে যৌবন ছাড়িয়ে 
বৃদ্ধ হয়েছি, এখন কি আর এগুলো করার বয়স আছে ! ” উক্তিটি চিরচেনা। জীবনের মূল্যবান একটি সময় শিশু-কিশোর বয়স । বলা হয়ে থাকে জীবনের সোনালী সময়। বাবা-মার পরম স্নেহ আর ভালোবাসা,পরিবারের সবার আদর যত্নে জীবনটাই যেন হয়ে উঠে পরিতৃপ্ত। ভবিষ্যতে চলার বীজ বপন হয়  শিশু কিশোর  বয়সে। অথচ এই বয়সেই অপরাধ ! জীবন শুরু যেখানে , সেখানেই কলঙ্ক ! বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এই অল্পবয়স্কদের অপরাধ প্রবণতা। যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরুপ।
কিশোর অপরাধ সম্পর্কে অপরাধ বিজ্ঞানীদের মত হল কিশোর তথা অপ্রাপ্ত বয়সে যে অপরাধ অর্থাৎ দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে কৃতকর্মই কিশোর অপরাধ। বাংলাদেশ শিশু আইন ২০১৩ এর ৪ ধারা অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে হল শিশু বা কিশোর। সুতরাং উক্ত বয়সের ভিতরে কৃত অপরাধই  কিশোর অপরাধ এবং উক্ত শিশু বা কিশোরের বিচার আমাদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে না। বাংলাদেশ শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী কিশোর অপরাধের বিচারকার্য সম্পাদন হবে। শিশু আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী উক্ত বিচারকার্য সময় ৩৬০ দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৮২ ধারা অনুযায়ী ৯ বছরের কম বয়সী শিশুর কৃত অপরাধ তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না এবং প্রচলিত আইনে এর শাস্তির বিধান নেই। আবার ৮৩ ধারা অনুযায়ী  ১২ বছরের মধ্যে বয়সের বালক / বালিকার বোধ শক্তি কম হলে তারও বিচারের বিধান নেই। সুতরাং বলা যায় ৯ কিংবা ১২ বছর থেকে ১৮ বছরের কিশোরের ক্ষেত্রে অপরাধে দণ্ড আছে এবং বিচার হবে।
শিশু অাইন অনুযায়ী অপ্রাপ্ত বয়স্কদের আমাদের সাধারণ আদালতের মত বিচার হয় না। এর জন্য শিশু আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী শিশু আদালত থাকবে । উক্ত শিশু আদালতে অপ্রাপ্তবস্কদের বিচার কার্য পরিচালনা জন্য আলাদা বিধিবিধান করে দেওয়া আছে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিশুদের দণ্ড প্রদান করা হয় না। যেমন কোনো শিশু যদি এমন কোনো অপরাধ করে যার শাস্তি প্রচলিত আইন অনুযায়ী যাবৎজীবন কারাদণ্ড সেক্ষেত্রে উক্ত শিশুকে সর্বোচ্চ দশ বছর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার বিধান আছে।  আইন অনুযায়ী যেহেতু এরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক সুতরাং এদের জন্য  শিশু আইন এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র করার বিধান হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি কিশোর কারাগার তথা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র আছে যার দুটো গাজীপুরে এবং একটি কিশোরগঞ্জে। এই তিনটি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় কতৃক পরিচালিত হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে
উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহে স্বীকৃত পদ্ধতিতে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও অভিবাবক কর্তৃক প্রেরীত শিশুদের কেইস ওয়ার্ক, গাইডেন্স, কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়ন, ডাইভারশন ইত্যাদি স্বীকৃত পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ, ভরণপোষন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসিত/আদালতের  নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনত এভাবেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধ জগত থেকে মুক্ত রাখা হয়। কথায় আছে “সৎ সঙ্গে সৎ বাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ” যার জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্কদের আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে অন্যথায় কারাগারে দাগী আসামীদের সংস্পর্শে এসে এরাও হতে পারে আরও বড় আসামী।
কিশোর অপরাধ প্রবণতার নানান কারণ আসে। অপরাধ বিজ্ঞানী কিংবা শিশু বিশেষজ্ঞদের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে একজন শিশু পরিপক্ব হতে যেমন পরিবেশ প্রয়োজন তেমন পরিবেশ সব ধরনের শিশুরা পায় না। যার জন্য শিশুরা পথভ্রষ্ঠ হয়ে নানান অপরাধে জরিয়ে পরে। তার আর্থিক অস্বচ্ছলতা, পারিবারিক কলহ, অসুস্থ পরিবেশ, সঙ্গদোষ, অপসংস্কৃতি ইত্যাদি। ইদানিং আমাদের দেশের শুনে যাচ্ছে কিশোর গ্যাং বা দলবেঁধে অপরাধ করা। সমাজের মধ্যে থেকেই কোনো না কোনো ভাবে কিশোরেরা এগুলো শিখেছে। যখন একটি শিশু পৃথিবীতে জন্ম হয় তখন তার মধ্যে কিছুই থাকে না। কিন্তু মানুষের মধ্যে থেকে বিভিন্ন আচার-আচরণ শিখতে থাকে। বিচার, বুদ্ধি বিবেক তথা পরিপক্বতা আসতে সময় লাগে। আমি মনে এর মধ্যে যদি সে পথভ্রষ্ঠ হয়ে যায় তবে সেটার জন্য দ্বায়ি তার আশে-পাশে থাকা মানুষগুলোও। আমাদের দেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল অপ্রাপ্ত বয়স্কদের  অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা বলা আছে। এর জন্য বলা যায় দেশের প্রায় সকল স্থানে প্রাইমেরী ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় আসে। শুধু তাই নয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শক্তি ও পর্যাপ্ত পুষ্টি সম্পন্ন বিস্কুট দেওয়া হয়। তাদের জীবনের প্রাথমিক পর্যায় ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখানে দিয়েই লাভ করে।
সার্বিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিবেচনা করে এটা বলা যেতে পারে সমাজের উপরই নির্ভর করে শিশুদের ভবিষ্যতে সুতরাং অপ্রাপ্ত বয়স্ক সঠিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সমাজ উপযুক্ত করা তুলতে হবে।

লেখক,
জিসান তাসফিক  
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, 
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
Fb : Zeesun Tasfiq 
mobile : 01714282792

লেখাটি শেয়ার করুন 

আপনার মতামত লেখুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো খবর 
© All rights reserved © 2020 ChandinaOnlineExplorer.com
Theme Customized BY LatestNews