1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. Jalalhossen555@gmail.com : Jalal Hossen : Jalal Hossen
  3. khorshed.eco@gmail.com : Khorshed Alom : Khorshed Alom
  4. hossaintnt@live.com : Shah Sumon : Shah Sumon
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

বাবা: আত্মত্যাগের এক অনন্য মহিমা

মুহাম্মদ ফয়সাল উদ্দীন
  • আপডেট সময়: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে 

বাবা শব্দটা কেমন জানি নির্মল!শুনলেই মনে হয় যেন স্নিগ্ধতার পরশ বুলিয়ে শীতল কোনো ছায়া এসে আত্মার আত্মতৃপ্তিতে ভিতরটা তৃপ্ত করে দিয়েছে। বাবার স্নেহমাখা চেহারাটা মুহুর্তেই সব নিরবতা ভেঙ্গে আবেগ গুলোই যেন ভাষা ফুটে ওঠে।

চিন্তার জগতে শিহরণ তুলে বাবার আত্মত্যাগ গুলো। বাবা মানে  বিকল্পের বিকল্প।(বা-বা)আমাদের চাহিদার অতি আন্তরিক যোগানদাতা বাবা শব্দটা।

একজন যুবক যখন বাবার জগতে প্রবেশ করে তখন থেকে তার শখ নামক গাছের প্রাণ ভোমরা নিস্তেজ হতে শুরু করে। ইচ্ছাগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হতে থাকে।প্রিয় সময়, জায়গাগুলো  অপ্রিয় বাস্তবতায় পরিনত হয়।সারাদিন খেটে রাত্রে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে  সারাদিনের ক্লান্তি অবসাদ মুছে।হাজারটা নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বাবার মুখের হাসি টা অটুট থাকে।কখনো কোনো অপূর্ণতা অভাবের ছাপ সন্তানদের বুঝতে দেয় না।

দুইটাকা বাচানোর জন্য তুমুল দর কষাকষি করা বাবাটা ও সন্তানের শখের দামি ব্রান্ডের মোবাইল কিনে দেয়।সামর্থের বাইরের আবদারগুলোও পূরণ করার জন্য যদি তার ছেড়া জুতাজুড়া বার বার  মুচির কাছে নিয়ে যেতে হয়  কিংবা জীর্ণ শীর্ণ পোষাক টা নিয়ে বাইরের জগতে হাসির খোরাক হতে হয় তাতে তার খারাপ লাগে বটে কিন্তু কখনো লোক লজ্জার আড়ালে নিজেকে হারায় নি।কখনো বড় কোনো কষ্টে বিচলিত হয় নি ভেঙ্গে পড়ে নি। কারণ  স  তখন তার ফুরিয়ে যাওয়া আশার প্রদীপে জ্বালানি হয়ে আসে সন্তানের মুখ পরিবারের হাসি ভুলিয়ে দেয় পাহাড় সমান কষ্ট।

আমাদের দেশে সাধারণত রমজান মাস আসলেই সন্তানদের আবদার শুরু হয়। নেমে যায় প্রতিযোগিতায়। কে কত দামের কাপড় নিবে।কার আগে কে কাপড় নিবে। সাধারণত যাদের টাকা  আছে তারা সন্তানদের রমজানের প্রথম দিকে কাপড়চোপড় কিনে ফেলে।সবাই চেষ্টা করে।আবার অনেকে সান্তনা দেয়।

দিন যতই গড়াতে থাকে ততই আবদারগুলো তিব্র হতে থাকে

একবার চাঁদ রাতে  একটা লোক দোকানে আসে সাথে ছিল আট দশ বছরের একটা ছেলে।চেহারা দেখে বুঝতে বাকি রইলো না  কতটা দুঃখের বসে ছেলের আবদার পূরণ করতে আসছে। কাপড় দেখতেছে। ব্যবসায়ীরা ঝামেলা এড়াতে কিছু নিন্মমানের কাপড় বাইরে  টাঙ্গিয়ে দেয়।লোকটা ওখান থেকে কিছু কাপড় ছেলের জন্য বাচায় করে।যদিও  ছেলের সামান্য অভিযোগ ছিলো।যাইহোক  যখন দোকানির কাছে গেল ওই কাপড়গুলোর দামও ছিল তার সামর্থের বাইরে।কিছুটা বিব্রত হতে হলো।তা জানতেন ও।তারপরও  অসামর্থের লজ্জা এড়িয়ে সাহস করে  গেছে ছেলের আবদার রাখতে।দোকানি কিছুক্ষণ কি যেন চিন্তা করল তারপর প্যাকেট করে  কাপড়গুলো  দিয়ে দিলো।

হ্যাঁ এটাই বাবা! ছেলের চাওয়া পাওয়ার কথা ভেবে এরকম  হাজারটা অপমান মেনে নেয়। বাবার নামক ছায়াটা আামাদের জীবনের সকল খরা থেকে রক্ষা করে।ছায়া প্রদান করে তার জীবনের শেষ মুহত্য পর্যন্ত।।কতই না ত্যাগ করেন আমাদের জন্য।এ যেন ত্যাগের ব্রত গ্রহন করেছে। অথচ আমরা কি পারি উত্তম প্রতিদান দিতে পারি।শেষ সময় পর্যন্ত পাশে থেকে বাবা ডাকার মাধ্যমে খুশি রাখতে পারি।স্নেহের  পরশ ভালোবাসার আহবান  কি আমাদের সবার কাছে পোছাতে পারে? স্নেহের মূল্য কি ভালবাসা দিয়ে কিছুটা হলেও শোধের চেষ্টা করি? নাকি সময়ে পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয়ে সেই চিরাচরিত সংগ্রামে ব্যস্ত রাখি!

থাক! এসব এইদিনে উল্লেখ নাই বা করলাম।

অন্তরের গহীন ভিতর থেকে কৃতজ্ঞতার কন্ঠে  ভালোবাসার ছোয়ায় শীতল অনুভুতি দিয়ে বলতে চায় বেঁচে থাকুক বাবা নামক ত্যাগের মহিমাটা।প্রিয়জনদের ভালোবাসায় উদ্ভাসিত হোক বাবাদের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো….

লেখাটি শেয়ার করুন 

আপনার মতামত লেখুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো খবর 
© All rights reserved © 2020 ChandinaOnlineExplorer.com
Theme Customized BY LatestNews