1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. Jalalhossen555@gmail.com : Jalal Hossen : Jalal Hossen
  3. khorshed.eco@gmail.com : Khorshed Alom : Khorshed Alom
  4. hossaintnt@live.com : Shah Sumon : Shah Sumon
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১০:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ 
চান্দিনার মাধাইয়া বীরপ্রতীক কর্ণেল মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ এর নামে সড়কের নামফলক ভাঙ্গচুর কামারখোলা ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি নেটওয়ার্কিং এর ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা সুশীল মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য চিন্তার খুড়াক! কওমি শিক্ষক দ্বারা আবার ছাত্র বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে লক্ষীপুর মাত্র ৮ মাসে কুরানের হাফেয: বিস্ময় বালক আরিফ উদ্দিন আরাফ নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীরা কিভাবে মানুষকে ধোকায় ফেলে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামী গ্রেপ্তার বিশ্বকে আবারো তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশী নাগরিকদের উপর জারিকৃত ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো দক্ষিণ কোরিয়া মাটি ব্যবসায়ীদের অবৈধ ট্রলি বাহী ট্রাকের জ্বালায় অতিষ্ঠ ভোমরকান্দি বাসী

কর্জে হাসানাহ

মুহাম্মদ ফয়সাল উদ্দীন
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে 
Karje-Hasana
Photo Source: www.daily-bangladesh.com
শুরুতে গল্পের মাধ্যমে কর্জে হাসানাহ একটা প্রতিবন্ধকতা  দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি।
রফিক সাহেব রাস্তার একপাশে দাড়িয়ে  তার মায়ের চিকিৎসার জন্য  ফোনে টাকা ধার চাইতেছে আত্মিয়স্বজনের কাছে।কারণ তিনি চাচ্ছেন না যে সুদের ধংসযজ্ঞে নিজেকে শামিল করতে।এভাবে কয়েকজনের কাছে চাইতে শুনা যায়।আাশেপাশে ছিলো এলাকার মুরব্বি ফরিদ মিয়া।কিন্তু রফিক সাহেব উনাকে খেয়াল করে নি।কথাগুলো শুনে আর তার মুখের দিকে তাকিয়ে ফরিদ মিয়া চাচা বুঝতে পারলো  তার টাকা ব্যবস্থা হয় নি।তিনি কথাগুলো শুনে টোপ বুঝে খোপ ফেলার জন্য কাছে  গেলেন।গিয়ে কথা বললেন…
দেখ বাবা  তোমার কথাগুলো আমি এতক্ষণ শুনেছি।আমি জানি তোমার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তোমার কাছে এখন টাকা নেই তাও আমি জানি।তবে তুমি চাইলে আমি তোমাকে কর্যে হাসানাহ হিসেবে টাকা দিতে পারি কিছুদিন পর দিয়ে দিও।রফিক সাহেব খুঁশি মনে গ্রহন করলেন এবং,আশ্বস্থ করলেন কিছুদিন পর টাকা পেলে দিয়ে দিবো। এভাবে তার বাবার চিকিৎসা চলতেছে।অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কিছুদিন পর যে টাকা পাওয়ার কথা ছিলো তাও খরচ করে ফেললো। মোটামুটি এখন একটু সুস্থতাবোধ করতেছে।
এর কিছুদিন পর ফরিদ চাচা রফিক সাহেবকে ডেকে পাঠালো।রফিক সাহেব বুঝলো যে পাওনা টাকার জন্য তাগদা দিছে।তিনি ভাবতেছে চাচার কাছে আর কিছুদিন সময় নিবে। গিয়ে ফরিদ মিয়া রফিক সাহেবকে কথা  বলারই সুযোগ  দিলো না।তিনি সরাসরি প্রস্তাব দিলো দেখ তোমার অবস্থা আমি জানি। তোমার দ্বারা এখন  আমাকে এখন টাকা দেওয়া সম্ভব নয় তাও জানি।তাই আমি বলি কি তুমি দক্ষিণের বিলের আবু তৈয়বের জমির পাশের ধানি জমিটা আমাকে রেজিস্ট্রি দিয়ে দাও আর বাকি টাকা নিয়ে যেও।এটা বোধহয় আমাদের জন্য ভালো হবে।তুমি বুদ্ধিমান ছেলে।তেমাকে তো আর সব কিছু ভেঙ্গে বুঝাতে হবে না।এবার রফিক সাহেব বুঝলো তাকে কর্য দেওয়ার পিছনে আসল রহস্য কি।এবার নিরুপায় হয়ে রফিক সাহেব তার পচন্দের,পশলা জমিটা দিতে বাধ্য হয়।এটা কি উত্তম ঋণ নাকি  রীতিমতো শোষণ। এবার আসি কর্যে হাসানাহ মানে ইসলাম কি বলে?
কর্য মানে হলো ঋণ আর হাসানাহ মানে হলো উত্তম। সুতারাং কর্যে হাসানাহ মানে হলো উত্তম ঋণ।আল্লাহ পাক কোরআনের বহু জায়গায় এই উত্তম ঋণ (কর্যে হাসানাহ)এর গুরুত্বারোপ করে  আয়াত নাজিল করেছেন।এটা সকল মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার পবিত্র একটা প্রচেষ্টা।আল্লাহ পাক সুরা আল হাদিদ এর ১৮ নং আয়াতে বলেছেন
[নিশ্চয় দানশীল নর নারী যারা আল্লাহকে উত্তমরুপে ধার দেয়।তাদের জন্য রয়েছে সন্মানজনক পুরষ্কার।]
তিনি আরও বলেছেন
[যদি খাতক অভাবগ্রস্ত হয় তাহলে স্বচ্চলতা না আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত: আল,বাকারা ;২৮০.]
কতটা নিখুঁত ভাবে আল্লাহ তা’য়ালা কর্যে হাসানাহ এর ব্যাপারে বলেছেন।
এখন আসি উত্তম ঋণ টার্ম টা দ্বারা আল্লাহ কি বুঝাতে চেয়েছেন।আমরা সচরাচর ঋণ বলতে বুঝি কাউকে তার দুঃসময়ে সহযোগিতা করা।তবে হ্যাঁ এটার জন্য বিনিময় মুল্য নিধারণ করে দিই।মানে তার বিপদে শুধু উপকার করলেই তো আমার পেট চলবে না তার জন্য আমাকেও তো ফায়দা হিসেবে কিছু পেতে হবে।আমি অযথা আমার টাকায় কোনো মুল্য ছাড়া কেন উপকার করবো।তাছাড়া টাকার জন্য যে বেনিফিট দিবে তা আমাকে আর্থিকভাবে স্বচ্চল করবে আর শারীরিক চাপ কমবে।
-আর এটাই হলো আমাদের মনের কথা আমরা এটাই যথাযথভাবে মেনে চলার চেষ্টা করি।এবার আসি আমাদের মিথ্যা সান্তনার উপর কোরআনের কি নির্দেশনা কী তা জেনে নিই।আল্লাহ পাক কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৩০ নং আয়াতে  বলেছেন
[হে ঈমাণদারগন!  চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খাওয়া বন্ধ করো আর আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে ]
এর পরিনাম বা ভয়াবহতা নিয়ে বলতে গেলে আগে শুরু করবো নিন্মোক্ত আয়াত দ্বারা
[হে ঈমাণদার তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর লোকদের কাছে তোমাদের  যে সুদ বাকি রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা যথাযথই ঈমাণ এনে থাকো সুরা আল বাকারা আয়াত ২৭৮]
[আর যদি এমনটি না করো তাহলে জেনে রাখো,এটা আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এখনে তাওবা করে নাও, সুদ ছেড়ে দাও তাহলে তোমরা আসল মূলধনের অধিকারী হবে।তোমরা জুলুম করবে না এবং তেমাদের উপর ও জুলুম করা হবে না :সুরা আল বাকারা আয়াত ২৭৯]
এবার  উত্তম ঋণ (কর্যে হাসানাহ)গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স) এর মুখনিঃসৃত কথা উল্লেখ করি।তিনি বলেছিলেন
আমি যখন মেরাজে গিয়েছিলাম তখন জান্নাতের দরজায় একটা লেখা দেখি…সেখানে লেখা ছিলো
 “দান খয়রাতের সওয়াব দশ গুন আর কর্যে হাসানাহর সওয়াব ১৮ গুন।”.
চিন্তা করে দেখেন কর্যে হাসানাহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ আর কি পরিমাণ ফজিলত এটাতে রয়েছে।এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শান্তি আর সুখে বার্তাবাহক পায়রা হয়ে আসে।সমাজ থেকে সুদ নামক বিষাক্ত কাঁটা উপড়ে ফেলে।সমাজকে ইসলামের প্রকৃত সুখের সান্নিধ্যে ফিরিয়ে নেয়।প্রত্যেককে স্বাবলম্বী করে তোলার ফলপ্রসূ একটা প্রয়াস যা আল্লাহ পাক নিজে বলে দিয়েছেন।
 আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক এনজিও প্রতিষ্টান গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছে প্রভু হয়ে আসে।স্বাবলম্বী জীবনের বাতাস ছড়িয়ে তারা নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে।আমরাও তাদের তোষামোদ করতে ভুল করি না।তাদের উদ্দেশ্য মহৎ থাকে যতক্ষণ না তাদের চোখ পর্যন্ত চুষে খাওয়া হয়।এক্ষেত্রে তাদের সহজ টার্গেটে থাকে সহজ সরল মা বোনেরা।কারণ তাদের দিয়ে সহজে তাদের কার্য হাসিল করা সম্ভব।তাদের টিম সব সময় সক্রিয় ব্রেইন ওয়াশ করতে।তাদের ঋণের ফজিলত নিয়ে আলোচনা তাদের শোষনকে আড়ালে রাখে।
আজকাল এসবের সহজলভ্যতা এটতাই বেড়ে গেছে যে এখন এনজিও গুলোর মধ্যেও একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যায়।অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, হতে পারে তিনি ধনীলোক তাই তার ঋণের প্রয়োজন পড়ে না আর এখানে এনজিওর দোষ কোথায়? আমাদের প্রয়োজন তাই আমরা নিচ্ছি বিধায় ওনারা দিচ্ছে। তাদের কাছ থেকে না ফেলে আমরা কোথায় পেতাম? না খেয়ে মরতাম।তাহলে আমি বলি কি আপনাকে নবী রাসুল ও সাহাবীদের জীবনীতে একটু চোখ বুলিয়ে আসতে হবে।তারা আর্থিকভাবে কতটা অস্বচ্চল ছিলো কতদিন না খেয়ে কাটায়ছে!কতটা সহনশীল ছিলো।দুঃখ দৈন্য কখনো তাদের কাবু করতে পারে নি কারণ তারা ছিলো ঈমাণের বলে বলিষ্ঠ।তারা পরিপূর্ণভাবে ইসলাম মেনে চলত।
ইসলাম সহজ সরল জীবনপদ্ধতি।মানবসমাজের কল্যাণকর জীবনযাপন নিয়ে এখানে বলা আছে।সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, অভ্যন্তরীন, বৈদেশিক,সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত এককথায় জীবনে চলার পথে সৃষ্ট সব সমাস্যার সুন্দর সমাধান ইসলামে দেওয়া আছে। কেউ যদি পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করে মেনে চলার  চেষ্টা করে তার জীবনে পথবষ্টতার কোনো সম্ভাবনা নেই।
একটা কথা আছে মানুষ যত পায় তত চাই চাওয়ার কোনো শেষ নাই।আজকাল সুদের ব্যবসার সহজলভ্যতার দরুণ শিল্পপতি থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া দিনমজুর পর্যন্ত সবাই সুদের কারবারে জড়িত।আমরা বিলাসীতার জন্য সুদকে ব্যবহার করতেছি।অনেকে বলে প্রয়োজনের তাগিদে আমরা ঝণ নিই।তাহলে বলি বিলাসীতার জন্যও আমরা সুদ নামক মহামারী গ্রহন করি।কেউ রিকসা চালায় আর সাধ করে ফ্রিজ কিনতে।ছেলের আবদারের আইফোন কিনতে।তাই সাধ আর সামর্থের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতার কারণে আমরা দারস্থ হই সুদী মহাজনের কাছে। আবার ধনীরা প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে।ব্যাংক থেকে মোটা অংকের লোন নেয় আর মোটা অংকের সুদ দেয়।
এক্ষেত্রে সুদ দাতা ও গ্রহীতা উভয় সমান অবদান রাখে সুদের প্রসার ঘটাতে।সুদকে ব্যভিচারের চেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ মনে করা হয়।সুদের শাস্তিকে সত্তর স্তরে ভাগ করে এর মধ্যে সর্বনিন্ম স্তর হলো নিজের মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।আল্লাহর কাছে এক দিরহাম সুদ খাওয়া মানে ছত্রিশ বার ব্যভিচার করার সমান। আমাদের মধ্যে এরকমও অনেকে আছে সরকার যদি হিসাব চায় তার হিসাবও দিতে পারবে না।এতটা অর্থের মালিক অনেকে আছে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অকারণে ফেলে রাখছে।এতগুলো পড়ে থাকছে অথচ প্রতিবেশি গরিব লোকটি প্রয়োজনে পড়ে কর্যে হাসানাহ পাচ্ছে না।সুদে টাকা নিতে হচ্ছে।কিন্তু কেন?
আমরা কেন পারি না নিজের উপার্জিত অর্থ ভালো উদ্দেশে ভালো কাজে ব্যয় করতে?কেন পারি না সামর্থ্যবান হয়েও পাশ্ববর্তী গরীব লোকটির অবস্থার উন্নতি আনতে?কি হবে এত সম্পদের পাহাড় দিয়ে।এসব কি বাঁচাতে পারবে মৃত্যূ থেকে নাকি জবাবদিহীতা থেকে?যদি অনন্ত আখেরাতের কথা চিন্তা করে কর্যে হাসানাহ এর মাধ্যমে চাহিদা সম্পন্ন মানুষদেরকে এসব অট্টলিকার কিছু অংশ  দেওয়া হয় তাহলে দেশে সুদ মহাজন,এনজিও  শব্দগুলো অচিরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে  আর অকারণে হিসেব দেওয়ার ভয়ে টাকাগুলো কেটে বস্তা ভরে সাগরে ফেলে দিতে হবে না।পাশাপাশি আখেরাতেও মিলবে অনাবিল শান্তি আর চিরস্থায়ী মুক্তি।
তবে হ্যাঁ এটাও ভুললে চলবে না যে কেউ আপনাকে কর্যে হাসানাহ দিচ্ছে আর আপনি সহজলভ্যতার সুযোগে বিনা প্রয়োজনে নিয়ে নিলেন আর অপব্যয় করে উজার করলেন তাহলে আমি বলি কি আপনি একে প্রতারণা করেছেন এবং অন্যের কর্য পাবার হক নষ্ট করেছেন।কর্যে হাসানাহ পাওয়ার হক একমাত্র তাদের থাকে যাদের চাহিদা আছে এবং তা নেওয়ার আগেই পরিশোধ করার ইচ্ছা পোষন করে থাকে।এ টাকা কিছুদিনের জন্য ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য দিয়ে থাকে।এবারে রাসুলুল্লাহ (স)এর একটা হাদিস উল্লেখ করে ইতি টানব।তিনি বলেছেন
|→হে মুসলমানরা,তালির উপর তালিযুক্ত চিন্নবস্ত্র পরিধান করা, ঋণ গ্রহন করা থেকে উত্তম। যদি তা পরিশোধ করার শক্তি না থাকে;মসনদে আহমদ|←

লেখক
“মুহাম্মদ ফয়সাল উদ্দীন” 

 

লেখাটি শেয়ার করুন 

আপনার মতামত লেখুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো খবর 
© All rights reserved © 2020 ChandinaOnlineExplorer.com
Theme Customized BY LatestNews