1. zobairahmed461@gmail.com : Zobair : Zobair Ahammad
  2. Jalalhossen555@gmail.com : Jalal Hossen : Jalal Hossen
  3. khorshed.eco@gmail.com : Khorshed Alom : Khorshed Alom
  4. hossaintnt@live.com : Shah Sumon : Shah Sumon
বুধবার, ২১ জুলাই ২০২১, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ 
কামারখোলায় নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক যুবসমাজের উদ্যোগে গরিবের মাঝে ৩০টি ব্রয়েলার মুরগী ইদ উপহার বিতরণ চাঁদপুরে রামমোহন তমিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ০৬ ব্যাচের নৌকা ও আনন্দ ভ্রমন উইঘুর শিবিরগুলোতে যা হচ্ছ রামমোহন তমিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ০৬ ব্যাচের এ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর আত্ম-প্রকাশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একশত তম ওয়ানডে জিতেছেন সাকিব আল হাসান কাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব | শায়খ গোলাম কিবরিয়া আযহারী কামারখোলা গ্রাম পরিদর্শনে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুন নাহার! চান্দিনার করতলা টু রামমোহন বাজার রাস্তায় সুড়ঙ্গ বেহাল অবস্থা দেখার কেউ নেই রাস্তা নয় এ যেন মরণ ফাঁদ! চান্দিনার কামারখোলা যুব সমাজের উদ্যোগে ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

কামারখোলা গ্রামের লিটনের বেঁচে থাকার গল্প

মো:খোরশেদ আলম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে 
এক খেটে খাওয়া গ্রামের লিটনের বেঁচে থাকার গল্প

জীবন ও জীবিকা

মাটির তৈরি তৈজসপত্রের সঙ্গে বাঙালির অস্থিত্ব জড়িয়ে। হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলে মৃৎশিল্প গড়ে উঠেছে। একসময় অন্যতম বড় এই শিল্প এখন মৃতপ্রায়। বাজারের প্লাস্টিকের তৈরি বাহারি জিনিসপত্রের কাছে নতি স্বীকার করেছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রগুলো। সারাদেশের মতো কুমিল্লার কামারখোলা গ্রামে ও শিল্পটি টিকে রয়েছে কোনরকম। তবে পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের এই পেশা এখনো ধরে রেখেছে কুমিল্লার কামারখোলা গ্রামের কয়েকটি কুমার পরিবার। এখনো তাদের নিপুন হাতে গড়ছেন মাটির বাসন-কোসন, সরা, সুরাই, হাঁড়ি-পাতিল, পেয়ালা, মটকা, পিঠা তৈরির ছাঁচ ইত্যাদি তৈজসপত্র।

হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ পেশা

কামারখোলা গ্রামে , কুমারদের বাড়ীতে কয়েকজন কুমার পরিবার মিলে একটি ছোট ঘর তৈরি করে যেখানে সম্মিলিতভাবে মাটির তৈরি শুকনো তৈরি জিনিস গুলো কে পোড়া দেওয়া হয়। এই ঘরটিকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় পাহাল আর বাংলা আভিধানিক নাম উনুন।কুমার সেই জ্বালানি সংগ্রহের জন্য গ্রামে গ্রামে বেড়িয়ে পরেন।বিভিন্ন মানুষের বাসঝারে বাসের পুরাতন গুড়ালি কুঠারের সাহায্যে কেটে ঝুরি করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।অনেক সময় বাস ঝারের মালিকের অনুমতি ছাড়া এই কাজ করলে কুমারের কুরাল,ঝুরি দেওয়া হত না । কুমারের বিষেশ অনুরোধে এই গুলো আবার ফেরত দেওয়া হত, এই শর্তে যে সে আর কোন দিন এই কাজ করবে না ।সাধারণ মানুষ যাকে পুজিবিহীন পেশা বলে, তবে অর্থনীতির মানুষ হিসাবে সম্পূর্ণ পুজিহীন বলতে আমি রাজি নই। উৎপাদনের সব উপকরণ উপস্থিত না থাকলে ও কুমারের শ্রম(মজুরি) জড়িত রয়েছে, যা উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ। এখন এইরকম কাজ কুমারদের প্রায় নেই বললেই চলে, কেননা এই পেশার প্রসার কম।

লিটনের হাতে বই নয় উঠেছিলো বাবার যন্ত্র

সেই কুমার পাড়ায় বাস করতনে এক কাঠ মিস্ত্রী ধীঢ়েনদ্র পাল। নামে পাল তবে পেশায় কাঠ মিস্ত্রী যাকে সবাই ধীরা মিস্ত্রী বলে ডাকে। তার কাজের সঙ্গে নামের এক মিল গ্রামের লোকজন খোজে পায়।কাঠ মিস্ত্রীর কাজ কচছপ গতিতে করতেন বলে তার ধীরা নামের এই খ্যাতি।তার দুই জন সন্তান, ছেলে লিটন পাল, মেয়ে ললিতা পাল।এই দাদার ছিলো সে এক বাজে স্বভাব সকলের নিকট কাজের অর্ডার নিতেন, তবে কথা মতো কাাজ করতে পারতেন না। এক দিনে তিন চার জায়গায় কাজের কথা বলে রাখতেন ,তাই যেতে পারতেন একটায়।তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না। তার ছেলেকে দিয়ে অনেক পড়াশোনা করানো দাদার খুব ইচ্ছা ছিলো। দাদার সেই ইচ্ছা কি পূর্ণ হয়ে ছিলো?।কামারখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করতে পারলেও নিম্ন মাধ্যমিক পাস করতে পারেনি লিটন পাল।সকল প্রতিবন্ধীকতা থাকলে ও লিটনের পড়াশোনার প্রতি আকর্ষ ও মনোযোগ ছিলো কম, তবে মেধাবী ছিল, পড়ত না, অংকে অনেক ভালো করত। হিন্দু ধর্ম বিষয় ছাড়া আর অন্য বিষয়ে পড়া পারতো না।তবে যেহেতু কামারখোলা সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে সময় হিন্দু ধর্ম অনুসারী কোন শিক্ষক ছিলো না আমাদের সকলে বিষয় টি জানতাম সে ঐ ক্লাসে স্যারকে ভূগোল মারে।তবে হে সে খুব ভালো গীতা পাঠ করতে পারতো, খালেক স্যার পিটির সময় গীতা পাঠ করাতেন তাকে দিয়ে। এই কারণে লিটন স্কুল কামালে সবাই জেনে পেলতো তা ছিলো লিটনরে নিকট আশ্চার্য ব্যাপার। লিটন ছিলো বাস্তব চিন্তার বাহিরে কল্পনা রাজ্যের রাজা হুমায়ন আহমেদের হিমুর মত।যুক্তির বাহিরের জগৎ এ তার বিচরন,যেমন মানুষ কেন পায়ে হাটে সে তো হাত দিয়েও হাটতে পারে, হাটার সময় মানুষের চোখ মুখ কেন সামনে থাকে কেন নিতম্ব সামনে দিয়ে হাটে না।মাহিফেলে কেন হিন্দুদের দাওয়াত দেয় না, মুসলমানরা কেন আমাদের ঘরে আসতে পারে না।আর যত উদ্ভূত অদ্ভূত প্রশ্ন ওর মনে পরত আর আমাদের বলত। লিটন একদিন স্কুলে আসেনি, তাই সহপাঠীরা কয়েকজন মিলে ওর বাড়ি যাই,গিয়ে দেখি একটি ভাঙ্গা কুড়ে ঘরে বসে লিটন কান্না করছে। ঐ সময় তার বাবা জুনু মেম্বারের টিনের ঘরের চালা লাগাতে গিয়ে মাজা মচকে যায়,কাজ থাক দূরের কথা উঠে দারাতে পারে না। ঘরে তার বৃদ্ধ দাদা,বোন বিয়ের বয়স হয়েছে, মায়ের শরীর অবস্থা ভালো না, এই বলে ও আমাদের কাছে কান্না করে হাউমাউ করে।শুধু চোখ দিয়ে ঢল ঢল কান্না জড়ছে।লিটনের বাবা অনেক দিন ধরে বিছানায় ছিলো কাজ করতে পারতো না।লিটনের পরিবারে নেমে আসে এক অমানিশার অন্ধকার ,সে অন্ধকার তাকে ক্রমশ ঘ্রাস করে ফেলে। শৈশবে স্কুল থেকে জড়ে পরা আমার একজন প্রিয় সহপাঠী লিটন, আজ সমাজে অনেকই প্রতিষ্ঠিতদরে কথা জানায়,জানে তবে ঐ জড়ে পরা লিটনদের খোজ রাখে না কেউ। যাদের বইয়ের বদলে ছোটবেলায় হাতে উঠেছে বাবাদের পেশায় ব্যবহৃত যন্ত্র।

পেশাগত পরিচয়ের বাহিরে লিটনরা রাস্তার কুকুর

মনের প্রশ্ন গুলো ভবঘুরে , উত্তর গুলো তারাদের আশেপাশে । প্রশ্ন কর উত্তর পাবে বা মাঝে মাঝে উত্তরের মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। তুমি কি সে উত্তর শোনবে কি না। অনেকটা বেখেয়ালী যুবক লিটন , খেয়াল থাকবেই বা কি করে পারিবারিক আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা তাকে স্বাভাবিক থাকতে দেয় না । অনেক দিন আগের কথা ধরুন নব্বই দশকের কথা ,যে ছেলেটির জন্ম হয় অজপাড়া গায়ের একটি র্নিমল বাতাস ও সবুজ শ্যামল ছায়ার বাগনে। বাগানটির নাম কামারখোলা গ্রাম। তার আজ কি খবর কেউ কি তার কোন খবর রাখে।রাখে না , রাখবেই বা কেন , ছেলেটি এমন কি করেছে যে সমাজ ব্যবস্থা তাকে মনে রাখবে।সে তো এই সমাজের বোঝা , অভিশাপ,কুলাঙ্গার।সমাজ মাঝে মাঝে ব্যক্তির ক্যারিয়ার পরিচয়টাকে বড় করে দেখে,ব্যক্তির চেয়ে। ব্যক্তির চেয়ে , যখন ব্যক্তির পেশাগত দিকটি লোকেরা বেশি মূল্যায়ন করবে,মনে রেখো সেই লোকেরা তোমার ঐ পেশা বা পদমর্যদার বাহিরে তোমাকে রাস্তার কুকুর মনে করে। ভুলে যাবে না , তোমার সফলতার অংশ তাকে দিবে, যে তোমার ব্যর্থতার অংশ স্বেচ্ছায় নিতে রাজি থাকবে।

ভবিষৎতের লিটরা শুনতে কি পাও

আজ লিটনের মনে একটি বিষয়, বার বার মনে করার চেষ্ঠা করে যে, ব্যক্তি,/জাতীয় জীবনে অথবা সামাজিক ব্যবস্থায় আমি কে বা মানুষ কেন আমাকে মনে রাখবে। আমার এই বয়সে কবি সুকান্ত সাহিত্যে রাজার ভেসে এসে ধন রত্নে পরিপূর্ন করে দিয়ে রাজ্যের মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। মানুষ খুব আজব প্রাণি তাকে সম্মান দিতে আমি নাহি জানি। সমাজের ভুল একদিন ভাঙ্গবে যখন সমাজের সকলে সফল হবে। তুমি কি কখন শঙ্খ চিল দেখোনি, চর অন্ঞ্চলে পানির অভাবে যখন প্রাণিকূল অস্থির প্রায় ,ঠিক তখন আকশের দিকে তাকালে দেখা যায় , শঙ্খ চিল মনের সুখে আকাশে উড়ছে আর ডাকছে। তুমি এসব দেখবে কোথায় , তুমি সময় পেলে ফেইজবুকে নিউজ ফিড দেখায় ব্যস্ত থাক। তোমার এসব দেখার সময় কোথায়। তুমি যে ভাবে সময় ব্যয় করছো তা কিন্তু ঠিক নয়।তোমার এই বয়সে যা করা দরকার তা না করে যা করছো ,মনে রেখো তার মাশুল কিন্তু একদিন তোমাকে গুণতে হবে। তুমি নিজেকে কি মন কর তার উপর নির্ভর করে তোমার রুচিবোধ কেমন। এই ধরুন কোন এক ব্যক্তি নিজেই মনে করছে ভবিষৎতে তার অনেক টাকা হবে, তবে সে অনুসারে কাজ করে না । আসলে এই ভাবনা সবাই ভাবে তবে খুব কমসংখ্যক ব্যক্তি, প্রকৃতপক্ষে বেশি টাকার মালিক হয় । কিভাবে হয় তা আর না বলি। তুমি হয়তো এখন আমেরিকার বৈদেশিকনীতি নিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে বুঝার চেষ্ঠা করছো, কিন্তু তুমি ইহা একবার ও মনে করোনি যে ,যা পড়ে বোঝার চেষ্ঠা করছো তা আমেরিকা নিজেই এই বৈদেশিকনীতি বাস্তবায়ন করেনি।অনেক অর্থনীতির মানুষদের বলতে শোনা যায় যে. বয়স ৩০ এর নিচে যাদের ,তারা সমাজতন্ত্র নিয়ে চিন্তা না করলে তারা হার্টলেস, বয়স ৩০ এর পর যারা সমাজতন্ত্র নিয়ে চর্চা করে তারা হেডলেস। নিজের মনকে বোঝা তোমার কাজ ,আমার নয়।

কাউয়া ছিল লিটনের বন্ধু

লিটনের এক বন্ধু ছিল খুব লম্বা ,চোখ বড় বড় দেখতে উগান্ডার নাগরিক মনে হত। লিটন তার নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে নাম রাখে কাউয়া। কাউয়া ছোট বেলা থেকে অনেক পরিশ্রমী মেধাবী ছাত্র ছিল। তার বর্তমান সামাজিক পরিচিতি তার মেধারি বহি:প্রকাশ। স্কুলের কোন একটি বার্ষিক পরীক্ষায় কাউয়ার রেজাল্ট খুব ভালো হয়ে ছিল।ঐ ক্লাসে তার রোল হয়ে ছিল তিন। সে সুখের সংবাদ তার কৃষক বাবাকে জানানোর জন্য খুব আনন্দিত। সে তার বাবাকে বলে , বাবা আমি রোল নং তিন পেয়েছি, তখন তার বাবা মাঠের তপ্ত রোদে কাজ করে বাড়ি ফিরেছে মাত্র। জবাবে কাউয়াকে গালি দিয়ে বলে তার বাবা বলে মানষের ছেলেরা পায় ৮০ ,এক শ ,৯০,তুই তিন পাইছস,দাড়া শা……পুত। কাউয়া ভ্র দৌড়ে সোজা স্কুলে আতরক্ষার জণ্য। পরে স্কু্লের শিক্ষক বৃন্দ তার অশিক্ষত বাবাকে তার ছেলের সফলতার কথা বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন। লিটনের সেই নাম দেওয়া মেধাবী কাউয়া আজ অনেক বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ পদে চাকরী করে। ও হে সেও লিটনের মত প্রেম করে বিয়ে করেছে । তার সংসারে ফুটফুটে একটা মেয়ে সন্তান ও আছে। সব বাধাকে , প্রতিবন্ধকতাকে মুকাবেলা করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছে,যা অত্র এলাকায় উজ্বল দৃষ্ঠান্ত হয়ে থাকবে। সমাজের বসন্তের কোকিলেরা এই কাউকে অনুসরণ করবে কি?

লিটনের গুরুর প্রতি ভালোবাসা

লিটনের কামারখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় ঐ স্কু্লের অংকের জনপ্রিয় শিক্ষক হান্নান স্যার হঠাৎ রোড এ্যাকসিডেন্ট মারাত্মক ভাবে আহত হয়। হান্নান স্যার চোখে , মুখে ও পায়ে প্রচন্ড আঘাত পায়। সহপাঠীদের লিটন প্রায় বলত যে তার কোন একজন প্রিয় মানুষের বিপদ আসন্ন। আসল কথা হল ভালোবাসার মানুষের আসন্ন বিপদ আগে থেকে টের পায়, অসপষ্ঠভাবে। অংকে ভালো হওয়ার কারণে স্যারের সাথে লিটনের খুব মধুর সর্ম্পক হয়ে যায়, স্যার লিটনকে খুব আদর করতেন। রহমতউল্লাহ ,লিটনের নিকট স্যারের বিপদের সময় কিভাবে সাহায্য করা যায় প্রস্তাব রাখে। সে বলে আমার কয়েক টা আইডিয়া আছে তোরা না বলিস না। সে সবাইকে বলে স্কুলের সবাই যদি প্রতিদিন একটা করে ডিম আনি, টিফিনের টাকায় টিফিন না করি এবং স্কুল কামায় না করে স্কুলের আগে ও পরে কৃষিকের মাঠে চুক্তিতে কাজ করি তাহলে , আমাদের বড় একটা আর্থিক তহবিল হবে ।(সহপাঠীর চেয়ে লিটন কৃষকের মাঠে কাজ করেছে সবার চেয়ে বেশি, কেননা চাদের আলোতে লিটন একায় অনেকাংশ কাজ করে ফেলত।) সব টাকা স্যারকে দিব আর কিছু ডিম বিক্রি করব, আর বাকি ডিম স্যারকে খাওয়ার জন্য দেব। আমি শুনেছি এই সময় দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য বেশি বেশি ডিম খেতে হয়। গুরুজনের প্রতি এই লিটনের ভালোবাসা আজও বহমান।

লিটনের আজগুবি স্মৃতি

লিটনের বড় হয়ে প্রেম করবে। প্রাথমিক স্কুলরে জাফর স্যার আর সাকিনা ম্যাম এর প্রেমের বিয়ে, জাফর স্যার কত প্রেমিক পুরুষ। তাই সে বড় হলে রসকষহীন মালেক স্যার নয়, প্রানবন্ত জাফর স্যার হতে চায়। সে জাফর স্যারের মত প্রেম করবে , প্রেম কিভাবে করে তা সে জানত না । তবে সে একটা মেয়েকে খুব পছন্দ করে। তবে সে মেয়ের নাম কোন দিন তার সহপাটীদের বলে না ।কারণ সে জানত প্রেম হল একটি গোপন ব্যাপার ও আবেগের বিষয়। গোপন কথা নিজের কাছে বন্দী , আর যাকে এই কথা বলা হবে ওর কাছে সে বন্দী হয়ে যাবে। জাফর স্যার আর সাকিনা ম্যামের বিবাহপূর্ব প্রেমের সর্ম্পক লিটন তার ললিতা দিদির নিকট থেকে জানা। লিটন বড় হয়েছে, শুনেছি সে নাকি প্রেমের বিয়েই করেছে।

যে লিটনের হাতে রয়েছে অলৌকিক শক্তি

লিটনের একটি ছোট বেলার অভ্যাস ছিলো স্থানীয় বাজারে ভিডিও প্লেয়ারে বাংলা ছবি দেখা। তার প্রিয় নায়ক জসিম, আর প্রিয় নায়িকা শাবানা।তাকে প্রশ্ন করা হয় তার প্রিয় নায়ক জসিম কেন? জসিম এমনি কাউকে মারে না তবে তার শরীর থেকে কেউ যদি আঘাত করে রক্ত বের করে ,তখন সে প্রতিহত করে, মারা শুরু করে এই জন্য প্রিয়।ছোট বেলায় সে আমাদের কে নিয়ে সুটিং করত, সে নায়ক আর আমরা ভিলেন ,সে কি মার মারত যে সত্যি সত্যি অনেক ব্যাথা লাগতো। অনেক ভিলেনের বাস্তব বাবা মায়েরা নায়কের বাস্তব মা বাবাকে নালিশ দিতেন।
লিটন খুব তেতুল পছন্দ করে,হাত ভর্তি তেতুল নিয়ে গ্রামের পাড়া বেরাত। গ্রামের মানুষের কাঠালের মুছি মিশিয়ে সে কি মজা করে খেত,দেখলে যে কারোর জিবে জল চলে আসত। লিটনের ছোট বেলার অভ্যাস গুলো বর্তমানেও আছে।একদিন কিশোর লিটন বাংলা সিনামা দেখবে গ্যারসিন হলে ,তার মা তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করে, সে তার মাকে বলে যে টাকা না দিলে আগুন লাগিয়ে দিবে বাড়ীতে। তার মা নাছুর বান্দা কোন ভাবেই টাকা দিবে না।তাই লিটন ম্যাচ বক্সে হাত রেখে বলে টাকা দিবি না হলে দিলাম আগুন।সত্যি সত্যি ঐ দিন লিটন আগুন ধরীয়ে দেয়।আর সিনামা দেথতে দৈৗরে যেতে যেতে বলতে থাকে কে কোথায় আছ আমাদের বাড়িতে আগুন লাগছে।লিটন আজ সরকারী বড় কর্মকর্তা ,দেশের বিশেষ গুওত্বপূর্ণ কমিশনে আছে।আমাদের কামারখোলা গ্রাম তাকে নিয়ে গর্ব করে। আমার এই লিটনের সাথে প্রায় আলাপ হয়।সে কামারখোলা গ্রাম কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে।অনেক নতুন নতুন আইডিয়ার কথা বলে।তার একান্ত চেষ্ঠা ও ইচছাশক্তির কারণে কামারখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পাচ্ছে নতুন একটি সরকারী ভবন ও জাপান বাংলাদেশ ফেন্ডশীপের প্রকল্প এর একটি আধা পাকা ভবন।সরজমিনে জমি মাপার কাজ শেষ যে কোন দিন কাজ শুরু হতে পারে। সামাজিক ,পারিবারিক ও গ্রামের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ অমিমাংসতি বিষয় গুলো মীমাংসা করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে আজকের আমাদের লিটন। এই লিটনের নেতৃত্বে আজকরে গ্রামের সকল লিটন এক হচ্ছে ,সকল অন্যায়কারীর দ্বারা রক্তাক্ত সমাজ ব্যকস্থাকে গঠন করা হবে সজীব প্রাণবন্ত করে, বাংলা সিনেমার নায়ক জসিমের ন্যায় সকল অন্যায়কে প্রতিহত করা হবে। সব সময় শুভ কামনা রইলো নেতৃত্বে থাকা ঐ লিটনের প্রতি।

লিটনের হাতে বই নয় উঠেছিলো বাবার যন্ত্র

সেই কুমার পাড়ায় বাস করতনে এক কাঠ মিস্ত্রী ধীঢ়েনদ্র পাল। নামে পাল তবে পেশায় কাঠ মিস্ত্রী যাকে সবাই ধীরা মিস্ত্রী বলে ডাকে। তার কাজের সঙ্গে নামের এক মিল গ্রামের লোকজন খোজে পায়।কাঠ মিস্ত্রীর কাজ কচছপ গতিতে করতেন বলে তার ধীরা নামের এই খ্যাতি।তার দুই জন সন্তান, ছেলে লিটন পাল, মেয়ে ললিতা পাল।এই দাদার ছিলো সে এক বাজে স্বভাব সকলের নিকট কাজের অর্ডার নিতেন, তবে কথা মতো কাাজ করতে পারতেন না। এক দিনে তিন চার জায়গায় কাজের কথা বলে রাখতেন ,তাই যেতে পারতেন একটায়।তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না। তার ছেলেকে দিয়ে অনেক পড়াশোনা করানো দাদার খুব ইচ্ছা ছিলো। দাদার সেই ইচ্ছা কি পূর্ণ হয়ে ছিলো?।কামারখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করতে পারলেও নিম্ন মাধ্যমিক পাস করতে পারেনি লিটন পাল।সকল প্রতিবন্ধীকতা থাকলে ও লিটনের পড়াশোনার প্রতি আকর্ষ ও মনোযোগ ছিলো কম, তবে মেধাবী ছিল, পড়ত না, অংকে অনেক ভালো করত। হিন্দু ধর্ম বিষয় ছাড়া আর অন্য বিষয়ে পড়া পারতো না।তবে যেহেতু কামারখোলা সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে সময় হিন্দু ধর্ম অনুসারী কোন শিক্ষক ছিলো না আমাদের সকলে বিষয় টি জানতাম সে ঐ ক্লাসে স্যারকে ভূগোল মারে।তবে হে সে খুব ভালো গীতা পাঠ করতে পারতো, খালেক স্যার পিটির সময় গীতা পাঠ করাতেন তাকে দিয়ে। এই কারণে লিটন স্কুল কামালে সবাই জেনে পেলতো তা ছিলো লিটনরে নিকট আশ্চার্য ব্যাপার। লিটন ছিলো বাস্তব চিন্তার বাহিরে কল্পনা রাজ্যের রাজা হুমায়ন আহমেদের হিমুর মত।যুক্তির বাহিরের জগৎ এ তার বিচরন,যেমন মানুষ কেন পায়ে হাটে সে তো হাত দিয়েও হাটতে পারে, হাটার সময় মানুষের চোখ মুখ কেন সামনে থাকে কেন নিতম্ব সামনে দিয়ে হাটে না।মাহিফেলে কেন হিন্দুদের দাওয়াত দেয় না, মুসলমানরা কেন আমাদের ঘরে আসতে পারে না।আর যত উদ্ভূত অদ্ভূত প্রশ্ন ওর মনে পরত আর আমাদের বলত। লিটন একদিন স্কুলে আসেনি, তাই সহপাঠীরা কয়েকজন মিলে ওর বাড়ি যাই,গিয়ে দেখি একটি ভাঙ্গা কুড়ে ঘরে বসে লিটন কান্না করছে। ঐ সময় তার বাবা জুনু মেম্বারের টিনের ঘরের চালা লাগাতে গিয়ে মাজা মচকে যায়,কাজ থাক দূরের কথা উঠে দারাতে পারে না। ঘরে তার বৃদ্ধ দাদা,বোন বিয়ের বয়স হয়েছে, মায়ের শরীর অবস্থা ভালো না, এই বলে ও আমাদের কাছে কান্না করে হাউমাউ করে।শুধু চোখ দিয়ে ঢল ঢল কান্না জড়ছে।লিটনের বাবা অনেক দিন ধরে বিছানায় ছিলো কাজ করতে পারতো না।লিটনের পরিবারে নেমে আসে এক অমানিশার অন্ধকার ,সে অন্ধকার তাকে ক্রমশ ঘ্রাস করে ফেলে। শৈশবে স্কুল থেকে জড়ে পরা আমার একজন প্রিয় সহপাঠী লিটন, আজ সমাজে অনেকই প্রতিষ্ঠিতদরে কথা জানায়,জানে তবে ঐ জড়ে পরা লিটনদের খোজ রাখে না কেউ। যাদের বইয়ের বদলে ছোটবেলায় হাতে উঠেছে বাবাদের পেশায় ব্যবহৃত যন্ত্র।

( চলবে—–)

লেখক:-মো: খোরশেদ আলম,কামারখোলা,মাইজখার,চান্দিনা/ ছবি সংগ্রহ করা

 

লেখাটি শেয়ার করুন 

One thought on "কামারখোলা গ্রামের লিটনের বেঁচে থাকার গল্প"

  1. Sumon says:

    সুন্দর লিখেছেন জনাব

আপনার মতামত লেখুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো খবর 
© All rights reserved © 2020 ChandinaOnlineExplorer.com
Theme Customized BY LatestNews